|
সিলেটের একেক স্থানের সৌন্দর্য্য একেক ধরনের। তাহিরপুরের টেকেরঘাট চুনাপাথরের প্রাকৃতিক ভান্ডারেও রয়েছে তেমনি এক অপরূপ সৌন্দর্য্য। বিচিত্র উপায়ে চুনাপাথর সংগ্রহের পদ্ধতি সত্যিই বিস্ময়কর। মনোমুগ্ধকর বললেও অত্যুক্তি হবে না। সিমেন্ট শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় এই চুনাপাথরকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গ্রামীণ আবহে পাহাড়ী খনি অঞ্চল। একদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মধ্য থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ প্রক্রিয়ার আধুনিক আয়োজন। অন্যদিকে বিশাল বিস্তৃত হাওর। দিগন্তে মেশা সবুজ ধানের মাঠ সত্যিই প্রকৃতির সাজানো এক মনোরম আঙ্গিনা। চুনাপাথর শিল্পকে ঘিরে টেকেরঘাটে মানুষের জীবন যাত্রায়ও এসেছে ভীন্নতা।
সাধারনত প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন- চুনাপাথর সংগ্রহের কাজ চলে। এছাড়া বন্ধ থাকে সংগ্রহ। টেকেরঘাটের বড়ছড়া দিয়ে কয়লা আমদানি করা হয়ে থাকে ভারত থেকে। প্রতি বছর ভারত থেকে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা আমদানি হচ্ছে এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে।। ভারতের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ী অধিবাসীদের কয়লা আহরণ পদ্ধতি, বিচিত্র জীবনধারা সত্যিই চমৎকার বিষয়। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপনি দেখে আসতে পারেন পাহাড়ী অধিবাসীদের ভারতীয় ভূখন্ড। পাহাড়ী বন্ধুদের জীবন ধারা আপনাকে নাড়া দেবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। আপনি এক নতুনের আলিঙ্গনে আপ্লুত হবেন। ভাললাগার এক ভীন্ন শিহরণ আপনাকে শিহরত করবে টেকেরঘাটে।
এই অঞ্চলে যাতায়াত করতে হলে বর্ষাকালই উত্তম। বর্ষাকালে শহরের সাহেব বাড়ি নৌকাঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট বা স্পীড বোটযোগে সরাসরি টেকেরঘাট যাওয়া যায়। ইঞ্জিন বোটে ৫ ঘন্টায় এবং স্পীড বোটে ২ ঘন্টা সময় লাগে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন বোটে খরচ হয় ২,০০০টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা পক্ষান-রে স্পীড বোডে খরচ হয় ৭,৫০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই। তবে সরকারী ব্যবস্থাপনায় টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকলের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। গ্রীষ্মকালে শহরের সাহেব বাড়ি খেয়া ঘাট পার হয়ে অপর পাড় থেকে মোটর সাইকেল যোগে ২ ঘন্টায় টেকেরঘাট যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ভাড়া মোটর সাইকেল প্রতি ৩০০ টাকা।
|