Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
বিভিন্ন তথ্যপঞ্জী এবং পরবর্তিতে আবিষ্কৃত তাম্রফলক ও শিলালিপি থেকে সিলেটের প্রাচিন ইতিহাস সম্পর্কের জানা যায়। সিলেটের নামের অনেক বৈচিত্র রয়েছে। সেগুলু হলো- সিরিহট্ট, শিলহট বা শ্রীহট্ট। শ্রী অর্থে- লাবন্য, তেজ, বীর্য ও জ্যোতি বোঝায়, অপর অর্থে লক্ষী। সিলেটের অন্যতম গৌরবমন্ডীত নাম শ্রীভুমি। ভারতের ভূস্বর্গ কাশ্মিরের সৌন্দর্যের কারনে এর রাজধানীর নাম রাখা হয়েছে শ্রীনগর। অনুরুপভাবে প্রাকৃ্তিক সম্পদের নগরী সিলেট ‘শ্রীভুমি’ নামে পৃথিবীর কাছে আজ পরিচিতি লাভ করেছে। শ্রীহট্ট তিনদিক থেকে ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত। উত্তরে মেঘালয়, পূর্বে আসামের কাছার জেলা এবং দক্ষিনে ত্রিপুরা রাজ্য। শ্রীহট্টের নিম্নাঞ্চল অসমতল ভুমি এক সময় সাগরের অংশ ছিল। অনেক হাওর, বিল এবং নৌঘাটির অস্তিত্ব এ সাক্ষ্য বহন করে। হাওরের উৎপত্তি সায়র বা সাগর থেকে। সপ্তম শতাব্দীতে চীনা তীর্থযাত্রি হিউয়েন সাং ভারত ভ্রমনের সময় সাগর তীরে অবস্তিত এলাকাটিকে শিলিচট্টল বলে উল্লেখ করেছেন। এই শিলিচট্টলই শ্রীহট্ট। শ্রীহট্টের অধিকাংশই জলাভুমি। বিল, নদী, হাওর দ্বারা বেস্টিত। প্রাচীন শ্রীহট্ট প্রধান তিনটি খন্ডে বিভক্ত ছিল। তিনটি খন্ড রাজ্য হল- গৌ্ড়, লাউড় ও জয়ন্তিয়া। এ তিনটি রাজ্য ছাড়াও তরফ, ইটা, ও প্রতাপগর নামে ছোট ছোট রাজ্য ছিল যা পরবর্তীতে গৌড় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

১) গৌ্রঃ বর্তমান সিলেট শহরতলিসহ উত্তর সিলেট এবং পুর্ব ও দক্ষিণে অনেক দূর জায়গা নিয়ে গৌড় রাজ্য ছিল।

২) লাউড়ঃ গৌড়ের পশ্চিমে অর্থাৎ সিলেট জেলার পশ্চিমাংশ জুড়ে লাউড় রাজ্য ছিল। লাউড় রাজ্য ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জ জেলার কিছু অংশ এবং সুনামগঞ্জ জেলার কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত।

৩) জয়ন্তীয়াঃ এই রাজ্য সিলেটের উত্তর-পুর্বাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণে সুরমা নদী ও দক্ষিণ-পুর্বাংশের ত্রিপুরা রাজ্যের জয়ন্তীয়া রাজ্যের সীমারেখা অর্ন্তভুক্ত ছিল। সমগ্র পার্বত্য জয়ন্তীয়া জেলা এই রাজ্যের অর্ন্তগত।

তরফ, ইটা এবং প্রতাপনগর রাজ্য পরবর্তীতে গৌড় রাজ্যের অংশ বলে বিবেচিত হয়েছিল।

রাজা গৌড়-গোবিন্দ
প্রাচীন সিলেট নগরির উত্তর এবং পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্তের অনেক অংশ জুড়ে গৌড় রাজ্য বিস্তৃত ছিল ।ঐতিহাসিক সুত্র মতে, সমুদ্রের সন্তান ছিলেন রাজা গৌর গোবিন্দ।ত্রিপুরা রাজবংশীয় কোন এক রাজার শত শত রাণী ছিল ।সমুদ্রদেব রাজার কোন এক রাণীর সঙ্গে মানুষরুপে মিলিত হন। এক পর্যায়ে রাণী গর্ভবতী হলে রাজা সেই রাণীকে নির্বাসিত করেন। রাণীর এই অসহায় অবস্থা দেখে সমুদ্র তখন আবির্ভূত হলেন। রাণীকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, তাঁর ইচ্ছায় সমুদ্রের জল সরে যতদূর চর পড়বে, নবজাত শিশু ততদুর পর্যন্ত রাজ্য অধিকার করতে পারবে। পরে সমুদ্র সরে যাওয়ায় ভরাট হওয়া স্থানটি গৌড় রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল। একসময় রাণী সুন্দর এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন। এই নির্বাসিতা রাণীর পুত্রই গোবিন্দ। গৌড় রাজ্য রাজা গৌড় গোবিন্দের শাসনাধীন ছিল। গোবিন্দ কোন নির্দিষ্ট রাজার নাম নয়। গৌড় রাজ্যের রাজারা গোবিন্দ উপাধিতে পরিচিত ছিলেন ।

আধ্যাতিক পুরুষ হযরত শাহজালাল (রাঃ)
হযরত শাহজালাল (রাঃ) পূণ্যভূমি ইয়েমেনের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহন করেন। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটে আবিষ্কৃত আরবি শিলালিপি মতে তিনি তুর্কিস্থানের অধিবাসী ছিলেন। পিতা মোহাম্মদ বিন ইব্রাহিম কোরেশী। জন্মের তিনমাস পর শাহজালাল (রাঃ) মাতৃহারা হন এবং পিতা মোহাম্মদ বিন ইব্রাহিম ধর্মযুদ্ধ অংশগ্রহন করে প্রান বিসর্জন করেন।

অনাথ শিশু শাহজালাল (রাঃ) প্রতি পালন করেন মামা সৈয়দ আহমদ কবীর। তিনিই শাহজালাল(রাঃ) বয়ঃপ্রাপ্তির পর তাঁর ধর্ম জীবনের গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলেনেন।কিছু দিনের মধ্যেই ধর্মগুরু বিভিন্ন কাজে তাঁর প্রিয় শিষ্য শাহজালাল(রাঃ) সিদ্ধিলাভের পরিমান বুঝতে পারেন। তারপর মামা শাহজালাল(রাঃ) কে পূর্বদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

পূর্বদেশে যাত্রার শুরুতেই মামা একমুঠো মাটি দিয়ে বললেন যে , স্বাদে বর্নে গন্ধে এ মাটির তূল্য মাটি যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে। শাহজালাল (রাঃ) এর প্রথম বারোজন সঙ্গীর মধ্যে চাশনী পীরকে উক্ত মাটি পরীক্ষার দায়িত্ব দিলেন।চাশনী পীর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ঐ মাটির সঙ্গে সিলেটের মাটির মিল খোঁজে পান। শাহজালাল ভারতের পূর্বাংশে ইসলাম প্রচারের উদেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। পথে চাশনী পীরসহ আরোও বেশ কয়েকজন দরবেশ তাঁর সফর সঙ্গী হন। দিল্লীতে নিজামউদ্দিন আউলিয়া তাঁর আধ্যাত্নিক ক্ষমতার প্রমান পেয়ে এক জোড়া পায়রা উপহার দেন। পায়রাগুলির বংশধররা স্থানীয় ভাবে 'জালালি কবুতর' নামে পরিচিত ।শ্রীভূমি পর্যন্ত পৌঁছাতে শাহজালাল(রাঃ) এর শিষ্য সঙ্গীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬০ জন।

আধ্যাতিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে হযরত শাহজালাল(রাঃ) তাঁর শিষ্য, সৈ্ন্যসামন্ত সহ খন্ড খন্ড পথ যুদ্ধে রাজা গৌড় গোবিন্দের সৈ্ন্যদের প্রতিরোধ করে সুরমার দক্ষিণতীরে এসে উপস্থিত হন। গৌড় গোবিন্দ কতৃক খেয়া বন্দ করা ও ভয় প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশল ও চেষ্টা ব্যর্থ হল। লোকমুখে প্রচলিত আছে হযরত শাহজালাল(রাঃ) নিজের আধ্যাতিক শক্তিতে জায়নামাযে বসে নদী পার হন। এ অবস্থায় রাজা গৌড় গোবিন্দের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে যায়। শাহজালালের নদী পার হওয়ার সংবাদ শোনে গৌড় গোবিন্দ ভয় পেলেন এবং যুদ্ধ করার কোন যুক্তি খুঁজে পেলেন না। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময়ের রাজত্ব ছেড়ে দিয়ে পরিবার পরিজন ফেলে পেঁচাগড়ে পালিয়ে আত্নগোপন করেন। ১৩৮৪ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট বিজয়ের পর শাহজালাল তাঁর শিষ্য অনুসারীদের বিভিন্নস্থানে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ দেন। হযরত শাহজালাল(রাঃ) ৩২ বছর বয়সে শ্রীহট্ট আগামন করেন এবং ৩০ বছর বাস করার পর ৬২ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।
Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us