Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
বিটিআরআই ও চা জাদুঘর

সিলেটের যে দিকেই তাকানো যাবে সেদিকেই চোখে পড়বে ছোট বড় চা-বাগান। বিভাগ জুড়েই রয়েছে চা বাগানের সমারোহ। সিলেট বিভাগে মোট চা বাগানের সংখ্যা ১৩৪টি। শুধুমাত্র শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৩৮ টি চা বাগান। এজন্য শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়। শ্রীমঙ্গলের উত্তর-পশ্চিম পাশে কিছু অংশ হাইল হাওর ছাড়া পুরোটা উপজেলাই চা বাগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভিতর দিয়ে যাবেন তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সৌন্দর্যরাশি যেন আপনার সন্মুখে।

চায়ের রাজধানীতে ঘড়ে উঠেছে গবেষণা কেন্দ্র। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রটি শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই স্থানটি বিটিআরআই হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। শহর থেকে ১০ থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌঁছে যেতে পারেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামামাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহারে। একটি বিটিআরআই এর অপরটি চা বোর্ডের অফিস পাশাপাশি। ভিতরে দেখতে পাবেন ৫০/৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ। চা ম্যানুফকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশর একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান। বিটিআরআইয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।

গত বছর দেশে প্রথমবারের মতো বিটিআরআইয়ে চা যাদুঘর স্থাপন করা হয়। দেড়শত বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ চা শিল্পের ইতহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে এই টি মিউজিয়াম স্থাপন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ব্রিটিশ আমলে চা বাগানগুলোতে ব্যাবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে যাদুঘরে। এর মাধ্যমে প্রাচীন সামগ্রী সংরক্ষনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এ শিল্পের ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার টি রিসোর্টের তিনটি কক্ষে স্থাপিত যাদুঘরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যবহৃত চেয়ার- টেবিল, চা শ্রমিকদের ব্যবহার করা বিশেষ কয়েন, কম্পাস, ঘড়ি, পাম্প টিউবল, খাট, আয়রন বেম্ব স্টিক, বিটিশ আমলের ফিলটার, চা গাছের মোড়া ও টেবিল, পাথর হয়ে যাওয়া গাছের খন্ড, প্রোনিং দা, প্লান্টিং হো, দিক নির্ণয় যন্ত্র, ফসিল, লোহার পাপস, ঘটি, বৃটিশ আমলের পাখা, গ্রহনা, কাটা কুদাল, টাইপ রাইটার, কয়েন পাথরের প্লেট, লোহার ফ্রেম টেবিল, প্রনিং নাইফ, ইলেকট্রিক ফ্যান, ফর্ক, সার্ভে চেইন, রেডিও, সিরামিক ঝাড়, বাট্টার ডিল, রাজনগর চা বাগানের নিজস্ব কয়েন, ব্রিটিশ আমলে লন্ডন থেকে আনা ওয়াটার ফিলটার, রিং কোদাল, তীর ধনুকসহ অনেক প্রাচীন সামগ্রী সংগ্রহ। চট্টগ্রামের ফটিক ছড়ি থেকে আনা হয়েছে কেরেসিন চালিত একটি বিশেষ ফ্রিজ। চা যাদুঘর স্থাপিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে সংযোজিত হয়েছে নতুন মাত্রা।

Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us