|
শৈল্পিক সৌন্দর্য্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশায় দাড়িয়ে আছে নবাব বাড়ী মসজিদ। প্রায় ৪শ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক লোক ভীর জমান। ৩টি গম্বুজ ছোটবড় ১০টি মিম্বরে নির্মিত এ মসজিদটিকে স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ নির্দশন বলা যায়। মসজিদের ভেতরে কালো পাথরে খোদাই করা আছে-জমিদারী সনদ। সনদটি পারস্য সভ্যতার লিজেন্ড দাউদ শাহ প্রদান করেছিলেন। মোঘল আমলে নবাবী আদলে নির্মিত ৪শ বছরের প্রাচীন এই মসজিদের দেয়ালে, মিনারের প্যানেলসহ আপাদমস-কে ভারতের মুর্শিদাবাদ ও ইরানের স্থাপত্য শিল্পের ছোঁয়া বিদ্যমান। মসজিদের দেয়ালে ইটের জ্যামিতিক নকশা কৌণিক খাঁজ কাটা এবং টেরোকাটা খচিত মিনার এক অপূর্ব নিদর্শন। মসজিদটিতে শিয়া ও সুন্নিরা সোহার্দ্য সমপ্রীতির নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়।
জানা যায়, ১৪১৯ খৃষ্টাব্দে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশায় এ মসজিদটি নির্মান করা হয়। নবাবরা শিয়া সমপ্রদায়ের হলেও সুন্নি সমপ্রদায়ের মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে এমসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভুমিকম্পে মসজিদটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ভুমিকম্পের পর মসজিদটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পৃথিমপাশা ষ্টেটের অন্যতম কর্ণধার শাহাজাদী শামীম খাঁন কাজমী প্রাচীন এমসজিদটি দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছেন।
সড়ক ও রেল উভয় পথেই আসা যায় কুলাউড়ায়। উপজেলা শহর কুলাড়ায় থাকা খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল রয়েছে। শহর থেকে নবাববাড়ি মসজিদ দেখতে গেলে খরচ পড়বে ৫ শ থেকে হাজার টাকা।
|