|
অন্যঘেরা দুর্গম পাহাড়, জারুল, চিকরাশি ও কদমের বনে হাজারো প্রজাপতির ডানামেলে উড়ে যাওয়া অথবা আঁকাবাঁকা ঝিরিপথে দিনের আলোতেই অসংখ্য ঝিঝি পোকার ডাক- নয়ানাভিরাম হামহাম হতে পারে আপনার এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মনের রসদ।
রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেষ্টের কুরমা বনবিট মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত কমলগঞ্জ উপজেলায় অবসি'ত। অরন্যঘেরা গহীন কুরমা বনবিটের দূর্গম পাহাড়ের পশ্চিমদিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। কুরমা বনবিটের আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। কুরমা চা বাগান থেকে চাম্পারায় চা বাগান এবং সেখান থেকে আরো ৫ কিঃমিঃ দূরে সীমান্ত এলাকায় কুরমা বনবিট। বনবিটের পার্শ্বে ত্রিপুরা আদিবাসিদের পল্লী তৈলংকামী।
কলাবাগান চা শ্রমিক পাড়াথেকে হাটা পথে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দুর্গম পাহাড়ী রাস্তা। অরন্যঘেরা পাহাড়ের গা ঘেষে ধোয়ারমত ঘন কূয়াশা ভেসে উঠছে আকাশ পানে। হঠাৎ চোখে পড়বে জারুল, কদম আর বেতবনে হাজারো রঙ্গিন প্রজাপতির ডানামেলে উড়ে যাওয়া। চারপাশে সবুজ বৃক্ষরাজী আর বন কলাগাছের অদ্ভুত এক আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায় বনের আরো গহীনে। দূর থেকে মাঝে মধ্যেই শুনতে পাবেন উল্লুকের ডাক। ডুমুর গাছের শাখায় চোখ পড়লেই দেখতে পাবেন চশমা বানরের কারিশমা। বাঁশবনে ঝিরিপথ ধরে হেটে চলা অত সহজ নয়। ডুলু, মুলি, মিটিংগা আর কালি এই চার প্রকারের বাশের দেখা মিলবে এখানে। ট্রেকিং করার সময় অবশ্যই একটি বাশের লাটি হাতে রাখতে হবে, পাথরের উপর দিয়ে খুব সাবধানে ধীরে ধীরে হাটতে হবে। আঁকাবাঁকা ঝিরি পথে ডানে বামে তাকানো অনেক কঠিন একটা বিষয়। এ কঠিনকে জয় করে একটু সামনে এগুলেই শুনতে পাবেন জলপ্রপাতের শব্দ। ঝরঝর করে ঝরে পড়া ঘামের শরীর ঝর্ণা দেখে উচ্ছাসে দুলে উঠবে। কঠিন পথের গম্ভীর ভাবটা উধাও হতে দেখে আরও অবাক হবেন। প্রায় ১৩০ ফুট ওপর হতে জল হামহাম শব্দে আছরে পড়ছে পাহাড়ের গা বেয়ে। কত উঁচু থেকে নেমে আসছে জলের ধারা! কি তিব্রতা! কি শব্দ! অনেক্ষন ধরেই শুনতে ইচ্ছে করবে জলের শব্দ। নীরবতায় সেই শব্দ শুনার আনন্দই আলাদা। পহাড়ে বেয়ে ওঠা সহজ হলেও ঢালু পিচ্ছিল পথে নেমে আসা বিপদজনক ও কঠিন। সন্ধ্যায় পাহাড়ের বুকে অন্ধকার নেমে আসার আগেই নামতে হবে সমতলের নিরাপদ কোন স্থানে।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে পূর্ব দিকে হামহাম জলপ্রপাতের অবস্থান। লোকাল জিপগাড়িতে করে চাম্পারায় চাবাগান পর্যন- যাওয়া যায়। কুরমা চাবাগান থেকে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত রাস্তাটি মাটির এর পর থেকেই দুর্গম পাহাড়ী উঁচুনিচু রাস্তা। শ্রীমঙ্গল থেকে ভোর ৬টার দিকে রওনা দিলে দিনের আলোতেই হামহাম জলপ্রপাতে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা সম্ভব।
রাতে যাপনের জন্য শ্রীমঙ্গল শহরকে বেছে নেয়া উত্তম। এখানে থাকার পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা আছে।
|