দেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলায়। বড়লেখা থানায় মাধবকুণ্ডের সুউচ্চ পাহাড় শৃঙ্গ থেকে শুভ্র জলরাশি অবিরাম গড়িয়ে পড়ছে। আর এই জলপ্রপাতের স্ফটিক জলরাশি দেখতে পুরো বছরই পর্যটকদের আনাগুনা পরিলক্ষিত হয় মাধবকুণ্ডে।
এ জলপ্রপাতের সুচনা কখন হয়েছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও ভূ-তাত্বিকদের ধারনা প্রায় হাজার বছর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সন্যাসী মাধবেশ্বর এখানে আস্থানা করেন। পাহাড়বেষ্টিত নির্জন স্থানে সন্যাসী ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। মাধবেশ্বরের আস্থানা ঘেষে বয়েছে ঝর্ণাধারা। পাথারিয়া পাহাড়েরর প্রায় ২‘শ ৫০ ফুট উচু থেকে কল কল শব্দে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হচ্ছে। সন্যাসী তার প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতেন ঝর্ণার শীতল জল দিয়ে। সেই থেকে প্রাকৃতিক জলধারাটির নাম মাধবকুণ্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
মাধবকুণ্ড অতীত থেকেই হিন্দু সমপ্রদায়ের তীর্থ স্থান হিসাবে পরিচিত। মাধবেশ্বরের আশির্বাদ নিতে হাজার হাজার মানুষ আসেন প্রতি বছরের চৈত্র মাসে। এ সময় মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে পুণ্যার্জন ও বারুনী স্নান করে পাপ মুক্তির কামনা করেন। মাধবের মন্দির ছাড়াও রয়েছে শিব মন্দির। বিশালাকার শিবলিঙ্গেরও পুজা হয়ে থাকে। চৈত্রমাসের ওই সময়ে বড় ধরনের মেলা বসে।
জলপ্রপাতের অবিরাম স্রোতধারা প্রবাহিত হওয়ায় পাহাড়ের শরীর পুরোটাই যেন কঠিন পাথরে পরিনত হয়েছে। জলরাশি নির্গত কুণ্ডের ডানদিকে রয়েছে বিশাল গুহা। আদিম যুগের মানুষ গুহায় বসবাস করলেও আধুনিক যুগের মানুষ গুহার সাথে তেমন পরিচিত নয়। তবে মাধবকুণ্ডে এলে গুহার ভেতর প্রবেশ করে নতুন আমেজ পাওয়া যায়। পাহাড়ের গভীরে তৈরি গুহাকে আধুনিক কারুকচিত পাথরের একচালা মনে হয়ে থাকে। গুহাটির সৃষ্টি প্রাকৃতিক ভাবে হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করলেও মুলত এটি ছিল সন্যাসী মাধবেশ্বরের ধ্যান মগ্নের গোপন আস্তানা। এটি কিভাবে, করা তৈরি করেছিল তার সঠিক তথ্য আজও রহস্যাবৃত।
বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দুরে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে মাধবকুন্ডে আসার সুবিধারও উন্নতি হয়েছে। সড়ক ও রেলপথ উভয় পথেই আসা যায় মাধবকুণ্ডে।
|