Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
টাঙ্গুয়ার হাওর
স্থানীয় ভাষায় টাঙ্গুয়ার হাওরকে বলা হয়- নয় কুড়ি কান্দার, ছয় কুড়ি বিল। কান্দাভর্তি হাওরে রয়েছে সারি সারি হিজল, করচ ও নলখাগড়া বন। একদিকে মেঘালয় পাহাড়। অন্য তিনদিকে তিন উপজেলা তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা। ৫১ টি বিল আর ৮৮ টি গ্রামবেষ্টিত টাঙ্গুয়ার হাওরের দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার এবং প্রস্থ সাত কিলোমিটার। বর্ষায় এর আয়তন দাঁড়ায় ২০ হাজার একরের বেশি আর হেমন্তে প্রায় সাত হাজার একর। এই হাওরে রয়েছে প্রায় ২শ’ প্রজাতির গাছ-গাছালি।

বর্ষা ও হেমন্ত দুই ঋতুতেই প্রত্যক্ষ করা যায় টাঙ্গুয়ার হাওরের আকর্ষণীয় রূপ। বৈচিত্রময় প্রকৃতি আর পাখ-পাখালির কলতানে মনোমুগ্ধকর আবহের সৃষ্টি হয় হাওরের জলতরঙ্গে। দেশের বৃহওম জলাভূমিকে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা ‘মাদার ফিশারিজ’ এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হাওরে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ। পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় সোয়াম্প ফরেস্টের অস্তিত্বও রয়েছে এখানে। রয়েছে প্রায় ১শ’ ৪১ প্রজাতির মাছ, দেশি প্রায় ২শ’ ৮ প্রজাতির পাখি, ১১ প্রজাতির উভচর পাখি, ১০ প্রজাতির বিদেশি পাখি, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২১ প্রজাতির সাপ, ২শ’ ৮ প্রজাতির জলজ ও স্থলজ উদ্ভিদ, ৬ প্রজাতির কচ্ছপ, ৬ প্রজাতির সত্মন্যপায়ী প্রাণী, ৭ প্রজাতির গিরিগিটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ।

বিশ্বের বিরল প্রজাতির প্যালাসেস ঈগল, বৃহদাকার গ্রে কিংস্টর্কও রয়েছে এখানে। স্থানীয় জাতের পাখিদের মধ্যে আছে- শকুন, পানকৌড়ি, কালেম, বৈদর, ডাহুক, বালিহাস, গাংচিল, বক, সারস ইত্যাদি। শীতে অতিথি পাখিদের কলতানে মুখর হয়ে উঠে টাঙ্গুয়ার হাওর। তখন হাওরের অন্য এক রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়।

ইজারাদারদের নির্বিচার মাছ নিধনের কারণে হাওরের জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়লে ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে রামসার এলাকাভূক্ত করা হয়। এলাকার জনগণকে সম্পৃক্ত করে হাওর পরিচালনার জন্য তৎকালীন সরকার হাওরটিকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে হসত্মানত্মর করে। এব্যাপারে ভূমি এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি সাক্ষরিত হয়। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন রামসার নীতি বাস-বায়নে কাজ শুরু করে। প্রশাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয় হাওরটিকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈচিত্র্যময় টাঙ্গুয়া হাওরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে। আর এ থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্বও পাবে। টাঙ্গুয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়ন আর সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে কাজে লাগিয়ে এখানে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। হাওরের সৌন্দর্য্য দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। ভ্রমনার্থীরা হাওর দেখে মুগ্ধ হলেও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওরের রূপ-লাবন্য প্রত্যক্ষ করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এ কারনে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।

টাঙ্গুয়ার হাওরে যাতায়াত করতে সুনামগঞ্জ শহরে অবস্থান করে নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। নৌপথ হওয়ার কারনে যাতায়াত ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম।
Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us