|
মেঘ পাহাড়ের দেশ বলে খ্যাত জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর পিকনিক স্পটে ইচ্ছে করলেই আপনি বাদল দিনের ভ্রমন সেরে নিতে পারেন। নীরবতায় আচ্ছাদিত এই স্থানটির পরিবেশ আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ। বৃষ্টি এলেও সমস্যায় পড়তে হবে না আপনাকে। বরং মনের ক্ষুদ্রতা দূর করে এই স্পটটি আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির বিশালতায়। তখন আর ঘরে ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে না। মন বলবে সেখানেই থেকে যেতে।
শ্রীপুর। তিন অক্ষরের এই নামটির মধ্যে কেমন যেন ভ্রমনের একটা গন্ধ লেগে আছে। সিলেটে বেড়াতে এসে শ্রীপুর দর্শনে না গেলে যেন অপূর্ণতা থেকে যায়। শহর সিলেট থেকে ৬২ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুরের অবস্থান। শ্রীপুর যাওয়ার পথেই আপনি ভ্রমনের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। কারণ সিলেট-তামাবিল সড়কের দু’পাশের প্রকৃতি আপনাকে সহসাই তার প্রেমে ফেলে দেবে। জৈন্তাপুর উপজেলা সদর থেকে শ্রীপুরের পথে রওয়ানা দেয়ার পর যে দৃশ্য চোখে পড়বে তাতে অনাবিল উচ্ছাস হৃদয়ে দোলা দেবে। মনে জাগবে শিহরন। শ্যামল প্রকৃতি আর মেঘেদের ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য কাছ থেকে দেখতে কার না ভালো লাগে। তাছাড়া দূর পাহাড়ের বুকে চিরে ঝড়ে পড়া ঝর্নার স্বচ্ছ জলরাশি আপনাকে কাছে নিয়ে যেতে চাইবে। কিন' সেই দৃশ্য দেখেই তৃপ্ত থাকতে হবে আপনাকে। কারণ ভারত ও বাংলাদেশের সীমা রেখা। এভাবেই এক সময় পৌঁছে যাবেন শ্যামল প্রকৃতির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রীপুরে।
পরিবার পরিজন নিয়ে আসতে পারেন। অথবা দলবদ্ধভাবে আসতে পারেন বন্ধুদের নিয়ে। যেভাবেই আসুন না কেন এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। পর্যটন স্পটে প্রবেশের জন্য মাত্র ৫ টাকার টিকে কাটতে হবে। সারা বছর পর্যটকদের ভীর থাকে শ্রীপুরে। শহরের যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে কোথাও নির্জনে সময় কাটানোর অন্যতম স্থান বলা যেতে পারে শ্রীপুরকে। এখানকার শান- পরিবেশ আপনার ভ্রমনকে উপভোগ্য করে তুলবে। যাতায়াত সুবিধা ও নিরাপদ হওয়ার কারণে এই পর্যটন স্পটটি দিনের দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
শ্রীপুরের লেকের স্বচ্ছ জলরাশির মধ্যে আপনি ইচ্ছে করলেই নৌ ভ্রমন সেরে নিতে পারবেন। ঘুরে বেড়াতে পারবেন এ পাশ থেকে অন্যপাশে। এজন্য আপনাকে ব্যয় করতে হবে মাত্র ২৫ টাকা। তবে অধিক সময় নৌকার মধ্যে কাটাতে হলে সে অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হবে। চারপাশে পাহাড় ঘেরা পরিবেশ তার মাঝে জলরাশিতে ভেসে বেড়ানোতে কি যে ভালো লাগবে তা উপভোগ না করলে বুঝতে পারবেন না। নৌকাতে ঘুরে বেড়ানোর সময় কণ্ঠে মনের অজানে-ই আপনি গেয়ে উঠবেন পরিচিত কোন গান। এছাড়াও জলের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের খেলা ও শাপলা ফুলের ভেসে থাকার দৃশ্য দেখতে ভাল লাগবে।
পর্যটন কেন্দ্রটিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এখানে প্রায় দশটির মত মায়ামৃগ রয়েছে। তবে এগুলোকে কাটাতারের বেড়া দিয়ে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কখনওবা এরা খেলা করছে আবার কখনওবা আহার। তবে দর্শনার্থীদের উপসি'তি টের পেলে দাঁড়িয়ে থেকে তাদেরকে একপলক দেখে নেয় ওরা। এই দৃশ্যটিকে পর্যটক মাত্রেই আকৃষ্ট করে। ভেতরে প্রবেশ করার পথেই এদের অবস্থান। এখান থেকে একটু এগিয়ে যাওয়ার পর অন্য একটি স্থানে চোখে পড়বে ৩টি বানর। চোখে চোখ পড়লেই ভেচকি কাটবে ওরা। পাশাপাশি করবে কিচির মিচির। তবে ভুলেও খাচার পাশে যাবেন না। তাহলে চিমটি কাটতে পারে দুষ্টু বানরগুলো। আরেকটু এগিয়ে গেলেই পাবেন বসে পড়ার স্থান। একটি পাহাড়ের উপর শ্যামল ছায়ায় ইট-পাথর দিয়ে তৈরী করা হয়েছে কয়েকটি বেঞ্চ। আপনি যখন এর যেকোন একটি বেঞ্চে বসে গল্পে মেতে উঠবেন তখন ছন্দপতন ঘটতে পারে স্বাভাবিকতায়। কারণ সারা পর্যটন কেন্দ্রে বিভিন্ন রংয়ের ঘুরে বেড়ানো ঘোড়ার পায়ের শেব্দে চমকে উঠারই কথা। তবে এগুলো কোন ক্ষতি করবে না আপনার। এভাবেই কেটে যাবে সময় কিন্তু শ্রীপুর আপনাকে বার বারই ফিরে আসার সময় তার কথা মনে করিয়ে দেবে।
শ্রীপুরে যাতায়াত সুবিধা ভালো। লাইনের বাসে অথবা ভাড়া গাড়ি এই দুই মাধ্যমেই আপনি পৌছাতে পারেন শ্রীপুরে। লাইনের বাসে গেলে ব্যয় ২৫ টাকার মতো আর ভাড়া করা গাড়িতে গেলে খরচ হবে হাজার থেকে পনের’শ। তবে যে মাধ্যমেই যান না কেন ঘন্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারবেন শ্রীপুরের শ্যামল ছায়ায়। এবার আসা যাক থাকা খাওয়ার ব্যবস্থায়। শ্রীপুরে যাতায়াত করতে হলে সিলেট শহরে অবস্থান করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, সিলেটে উন্নতমানের অসংখ্য হোটেল রয়েছে। সেখানে আপনি রাত্রি যাপনের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে পারবেন সহজে। এজন্য আপনাকে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। হোটেল ভাড়া অন্যান্য শহরের মতই। তবে খাবার ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে একটু বেশি টাকা।
|