Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর বনগুলোর অন্যতম একটি রেমা-কালেঙ্গা। একবার এর রূপ লাবন্য প্রত্যক্ষ করলে বার বার ছুটে যেতে ইচ্ছে করবে সেখানে। রেমা-কালেঙ্গার প্রকৃতি এমনই মনোমুদ্ধকর যে মনে হবে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে এই বনকে।

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারন্যটি বাংলাদেশের একমাত্র ভার্জিন বন। এই বনের অবস্থান হবিগঞ্জ জেলায়। মূল বনে যাবার মাধ্যম হলো চুনারুঘাট উপজেলা শহর থেকে জীপে অথবা অটোরিকশায়।

অভয়ারণ্যে যেন সৌন্দর্য্যের চাদর বিছানো। পাতাঢাকা রাস্তা দিয়ে বনের যতই অভ্যন্তরে প্রবেশ করবেন মন ততই বলবে আরও অভ্যন্তরে যাওয়ার। নানা প্রজাতির পাখিদের কলতান আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যএক সঙ্গিতের জগতে।

বনের মধ্যে প্রবেশের পর চোখে পড়বে অসম্ভব সুন্দর একটি লেক। লেকের চারপাশ এতই প্রাকৃতিক যে, মনেই হবে না এটা কৃত্রিম। বন্য প্রাণীদের খাবার পানির চাহিদা মেটাতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। লেকের পাশে রয়েছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। ইচ্ছে করলে উঠে যেতে পারবেন টাওয়ারে। ওপর থেকে পুরো বনভূমি দেখার মজাই আলাদা। যত দূরে চোখ যাবে শুধুই প্রত্যক্ষ করবেন দুর্ভেদ্য জঙ্গল। এই অভয়ারণ্যে ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, গাছ-পালা, লতা-পাতা আছে। উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদগুলোর মধ্যে রয়েছে-আওয়াল, সেগুন, কাঁকড়, নেউড়, হারগাজা, গন্ধরই, হরীতকী, বহেরা, জাম ডুমুর, কাঠাল, চামকাঠাল, কাউ, কদম, রাতা, চিকরাশি, চাপালিশ, নিম, বনমালা ইত্যাদি। আছে ৭ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। উল্লেখযোগ্য পাখিগুলো হচ্ছে-ভিমরাজ, পাহাড়ি ময়না, কাও ধনেশ, বনমোরগ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শ্যামা, শালিক, শামুক খাওরি, টুনটুনি ইত্যাদি। ৩৭ প্রজাতির স-ন্যপায়ী প্রাণী আছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য-কালো বন্যশুকর, সাদা বন্যশুকর, বানর, হনুমান, মুখপোড়া হনুমান, খরগোশ, ছোট হরিন, মেছোবাঘ, মেছোবিড়াল, বনকুকুর, রামকুত্তা প্রভৃতি। ভাগ্য ভালো থাকলে হরেক রকমের প্রাণীর দেখা পাবেন আপনি। ভিন্ন এক জগতের আবহ ভেসে উঠবে আপনার চোখের সামনে।

পুরো কালেঙ্গা রেঞ্জে বিট আছে চারটি। সেগুলো হচ্ছে কালেঙ্গা, রশিদপুর, রেমা আর ছনবাড়ি। এরমধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ির এক হাজার ৭৯৫ হেক্টর জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য। ১৯৮১ সালে এই রিজার্ভ ফরেষ্টের ১০৯৫ হেক্টর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৬ সালে ফরেষ্টের আরও কিছু জমি বৃদ্ধি করে মোট ১৭৯৫ হেক্টর এলাকাকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এই বনে ৩ টি আধিবাসী সমপ্রদায়ের বসবাস। ত্রিপুরা, সাওতাল, উড়ং এই তিন সমপ্রদায় মিলে মিশে এখানে বসবাস করছে যুগ যুগ ধরে। যা দেশের অন্যকোথাও বিরল।

একসময় গোটা বনে ছিল বাঘ-ভালুকের রাজত্ব। বড় বাঘ আর চিতা বাঘের কান ফাটানো গর্জনে কাঁপত পুরো বন। তখন বনে, রাতে পথ চলত না কেউ। কালেঙ্গা থেকে রেমায় একটা সুন্দর পথ চলে গেছে। এটা ধরে এগুতে থাকলে বন আর বনের প্রাণী দুটোই দেখা যায় চমৎকারভাবে।

এই বনে টিয়া পাখির বিচরণ অত্যধিক। ঝাকে ঝাকে উড়ে টিয়া। আর মায়া হরিনের দল বেধে দৌড়ানোর দৃশ্য আপনাকে নিয়ে যাবে কল্পনার জগতে। বনের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বেশ ক’টি ছড়া। গ্রীষ্মে এগুলোতে পানি কম থাকলেও বর্ষায় থাকে পরিপূর্ণ। স্রোতও থাকে প্রবল। ছড়াগুলো এই বনের সৌন্দর্য্যে যুক্ত করেছে অন্যমাত্রা। সারা বছরই উন্মুক্ত থাকে এই অভয়ারণ্য। যে কোনো সময় পরিবার পরিজন নিয়ে, ঘুরে আসতে পারেন রেমা-কালেঙ্গা থেকে। না দেখলে বুঝতেই পারবেন না - প্রকৃতির সৌন্দর্য্য আসলে কি?
Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us