|
সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ছাতক শহর। চুনাপাথর, তেজপাতা, কমলালেবু এবং বালুর নগরী ছাতক। লোকমুখে প্রচলিত আছে এই অঞ্চলে একসময় কোন বসতি ছিলনা। এখানেই ছোট একটি বাজারে পাহাড়ি উপজাতীরা বিভিন্ন ফলের বিশেষ করে কমলালেবুর দোকান নিয়ে বসত সপ্তাহে দুইদিন। রোদ-বৃষ্টির ঝামেলা থেকে নিরাপদে থাকার জন্য বাঁশের পাতা দিয়ে নির্মিত বিশেষ এক ধরণের ছাতা ব্যবহার করত বিক্রেতা আদিবাসীরা। বাজার শেষে তারা ছাতা নিয়ে বাড়ি ফিরত। এঘটনা প্রায় ২০০ বছর আগের। একারণেই এলাকার নাম হয়ে উঠে ছাতক।
নদী-নালা, হাওর-বিল, পাহাড় খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ছাতক অঞ্চল। এখানে আছে সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল দুটি সিমেন্ট কারখানা প্রখ্যাত বাউলসাদ দুর্বিনশাহের সমাধি খাসিয়া আদিবাসী পল্লী ইংলিশ টিলা, খাসিয়া ও চেলা পাহাড়।
ইংলিশ টিলা ছাতক: ২০০ বছরের আগে ছাতকে বসতি ছিল না। ১৮০০ সালের দিকে জর্জ ইংলিশ নামে একজন বৃটিশ নাগরিক ছাতকে আসেন। এরপরেই ছাতকে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। নির্মিত হতে থাকে দালান কোঠা, বসত বাড়ি। ১৮৫০ সালে তার মৃত্যু হলে ছাতক শহরের বাঘবাড়ি নামক স্থানের একটি টিলায় সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে এই টিলা ইংলিশ টিলা নামে পরিচিত।
>সিমেন্ট কারখানা: ছাতকে দেখতে পারবেন বাংলাদেশে দুটি সিমেন্ট কারখানা, সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে উত্তর পাড়ে এদুটি কারখানার অবস্থান। এগুলো ঘুরে দেখতে পারেন অনায়াসে। সুরমার তীরে চুনা পাথর কিভাবে পোড়ায় তাও দেখা যাবে।
খাসিয়া এবং চেলা পাহাড়: ভারত সীমানে-ই সৌন্দর্য্যের সব অহংকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অরন্য ঘেরা খাসিয়া ও চেলাপাহাড়। খনিজ নগরী ছাতকের উত্তর দিকে ১৮ কিলোমিটার দূরেই এই পাহাড়ের অবস্থান। সেখানে নৌ পথে যেতে হবে। নদীর দুই পাশের প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। চেলাপাহাড়ের কাছাকাছি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা। চেলাপাহাড় আর চেলা নদী এই দু’য়ে যেন অপরূপ ছাতক।
সিলেট শহর থেকে ছাতকের দূরত্ব মাত্র ৩৫কিলোমিটার। আম্বরখানা থেকে ছাতকে যেতে সময় লাগবে ৪৫মিনিট। ছাতক শহরে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো হোটেল আছে। অবকাশ যাপনের জন্য একটি রেষ্ট হাউস আছে। পূর্ব অনুমতি ছাড়া রেষ্ট হাউসে থাকা যাবে না।
|