Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
ওসমানী জাদুঘর
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর রয়েছে অনন্য অবদান। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড স্মরণীয় করে রাখতে সিলেট নগরীর ধোপাদীঘির পাড়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ওসমানী জাদুঘর। ১৯৮৭ সালে ৪ মার্চ অনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির যাত্রা শুরু হয়। ২ বিঘা জমির উপর মনোরম পরিবেশে সেমিপাকা টিনসেডের বাংলোটি ওসমানীর স্মৃতিগাঁথায় ভরপুর। বাড়িটির সামনে পিছনে খোলা বারান্দা জাদুঘরকে করেছে আকর্ষনীয়।

জেনারেল ওসমানীর পির্তৃক বাড়ি নূর মঞ্জিলই- আজকের ওসমানী জাদুঘর। ব্যক্তি, যোদ্ধা এবং রাজনৈতিক নেতা ওসমানী সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ওসমানীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ঐতিহাসিক ঘটনার বহু দলিল, দুর্লভ ছবি, চিত্রকর্ম রয়েছে এখানে। বাংলোর পশ্চিমের কক্ষে থাকতেন ওসমানী। এই কক্ষটিকে জাদুঘরের ১ নং গ্যালারি করা হয়েছে। মাঝের কক্ষ ছিল অতিথিদের জন্য। এটি এখন ২ নং গ্যালারি। পূর্ব প্রানেত্মর কক্ষটি ছিল খাবার ঘর। এটি বর্তমানে জাদুঘরের ৩ নং গ্যালারি। প্রথম গ্যালারিতে রয়েছে ওসমানীর তরুণ বয়সের একটি পেইন্টিং। এখানে আরো রয়েছে একটি টেবিল, কয়েকটি চেয়ার, একটি শোকেস, বই, দুটি ব্রিফকেস ও তাঁর ব্যবহৃত জামা-কাপড়। শোকেসে সাজানো রয়েছে রাষ্ট্রীয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে দেয়া উপহার সামগ্রী। স্বাধীনতা দিবসের পুরস্কারের সম্মাননাপত্র, ১২টি উপহার সামগ্রী, ৮টি মেডেল এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্ধিরা গান্ধির একটি চিরকোট, ওসমানীর পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত ব্যাজ আছে ২ নং গ্যালারিতে। সঙ্গে আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কয়েকটি বড় আকারের আলোকচিত্র। বিশাল একটি মানচিত্র আছে ৩ নং গ্যালারিতে। আর আছে তাঁকে দেয়া মানপত্র, আলোকচিত্র, একটি খাট, আলমিরা, একটি ডাইনিং টেবিল আর নামাজের ছোট চৌকিতে বিছানো জায়নামাজ ও একটি কালো টুপি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা হিসাবে পরিচালিত এই জাদুঘরটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন- কোন ফি ছাড়াই পরিদর্শন করা যায়।

উল্লেখ্য- মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ১৯১৮ সালে সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৬ বছর বয়সে তিনি লন্ডনে মারা যান। তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us