Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us   
সূচিপত্র
সিলেটের প্রাচীন ইতিহাস
সিলেটের আদিবাসী ও উপজাতি সমাজ
প্রকৃতিকন্যা জাফলং
প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শ্রীপুর
জৈন্তার রাজবাড়ি
লালাখাল
নন্দানিক কীন ব্রিজ
ওসমানী জাদুঘর
মনিপুরী রাজবাড়ি
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার
মিউজিয়াম অব রাজাস
মালনীছড়া: সবুজের সীমানায়
ভোলাগঞ্জ
টাঙ্গুয়ার হাওর
হাছন রাজা মিউজিয়াম
টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প
শিল্পাঞ্চল ছাতকের সৌন্দর্য
মাদবকুন্ড জলপ্রপাত
মসজিদে শৈল্পিক সৌন্দর্য
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
হামহাম জলপ্রপাত
মাধবপুর লেক
বিটিআরআই ও চা- জাদুঘর
শ্যামলী
বাইক্কা বিলে পর্যটন টাওয়ার
নির্মাই শিববাড়ি
সিতেশ দেবের চিড়িয়াখানা
হাইল হাওর
ভাড়াউড়া লেক
অফিং হিল
তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ
অপরূপ সাতছড়ি
রেমা কালেঙ্গা অভয়ারণ্য
প্রকৃতি কন্যা জাফলং
জাফলংকে বলা হয়ে থাকে মেঘ-পাহাড়ের দেশ। পাহাড়ের সাথে আকাশের মিতালী এবং সীমানে-র ওপারে প্রবাহিত ঝর্ণাধারা অনন্য এক আবহের সৃষ্টি করে রেখেছে জাফলংয়ে। পরিবেশবিদরা জাফলংয়ের নাম দিয়েছেন- ‘প্রকৃতি কন্যা’। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা নিকেতন। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে সাজানো পাথরের স্তুপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমানে-র ওপারে ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, নদীর স্বচ্ছ হিমেল জল, উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে পর্যটকদের কাছে জাফলং ভ্রমনের জন্য এক অনন্য স্থান। জাফলংয়ের কাছেই রয়েছে খাসিয়া পুঞ্জি ও কমলার বাগান।



জাফলংকে শুধু ‘প্রকৃতির কন্যা’ নামেই অবিহিত করা হয় না। নানা নাম রয়েছে জাফলংয়ের। বিউটি স্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব অভিধা দেওয়া হয়েছে জাফলংয়ের। প্রতিদিন অগনিত ভ্রমনার্থীর পদভারে মুখরত হয়ে উঠে জাফলং।

সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা উভয় মৌসুমেই যাতায়াত করা যায়। তবে একেক ঋতুতে জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য একেক রকম। বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় শুভ্র মেঘেদের বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিতে পাহাড়ি পথ হয়ে ওঠে বিপদসংকুল। শিহরণ জাগে মনে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়। পিয়াইন নদীর স্ফটিক জলে নৌ-ভ্রমনের আনন্দই আলাদা।

প্রাচীনকালে জাফলং খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি ছিল। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর এই রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত ছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় এখানে নতুন জনবসতি গড়ে উঠে। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট। জাফলংয়ে খাওয়ার হোটেল থাকলেও থাকার ভালো হোটেল নেই। জাফলংয়ে সিলেট শহর থেকেই যাতায়াত করা সহজ। শহর থেকে মাইক্রোবাসে যাতায়াত করতে হলে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা আর ফোরষ্ট্রোকে যাতায়াতে ৭শ টাকা ব্যয় হবে।
Home  |  About Writer  |  Photo Gallery  |  Contact Us